নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বদলি: অভিযোগে ঘেরা মোহাম্মদ জাকির হোসেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হল
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ দিগন্ত
নারায়ণগঞ্জ, ৭ নভেম্বর ২০২৫
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ জাকির হোসেন-কে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব আবুল হায়াত মো. রফিক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বর্ণিত কর্মকর্তা আগামী ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন। অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্ণ থেকে তাঁকে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক অবমুক্ত) বলে গণ্য করা হবে।
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ : স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে তার চালক জসিমের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন।
ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের সামনে কিছু ওষুধের দোকান মালিকের দাবি, ড্রেন নির্মাণের নামে তাদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল। তারা জানান, দুই দফায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করা হয় এবং বাকি অর্থ কাজ শেষে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, নাসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের নামে প্রতি ওয়ার্ড থেকে এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হতো। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কাছ থেকেও নির্ধারিত ২৫ টাকার পরিবর্তে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে, যার কোনো রসিদ বা সরকারি রেকর্ড নেই।
নিয়োগে অনিয়ম ও প্রভাব খাটানো : সিটি কর্পোরেশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীরা জানান, তিনি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চাকরি ও পদোন্নতি দিয়েছেন। প্রশাসকের সময়ে মাস্টার রোলে ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও এর মধ্যে ১০ জনকে ঘুষের বিনিময়ে পদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা: অভিযোগ রয়েছে, বদলি হওয়ার পরও মোহাম্মদ জাকির হোসেন এখন নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। তিনি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাকে দোষারোপ করে তাদেরও বদলি করার জন্য চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ ও পদে টিকে থাকার কৌশল হিসেবে এই পাঁয়তারা শুরু করেছেন।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ না শাস্তিমূলক ব্যবস্থা?
স্থানীয় মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই বদলি কি শুধুই প্রশাসনিক রদবদল, নাকি অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা? তবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনমনে স্বস্তি ও প্রতিক্রিয়া: বদলির খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন,
“দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এটি প্রথম পদক্ষেপ, এখন চাই তার বিচার।”
সতর্কবার্তা: উপরোক্ত তথ্যগুলো স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংগৃহীত। কোনো প্রশাসনিক তদন্ত বা আদালতের রায়ে এগুলো এখনো প্রমাণিত নয়। কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা তদন্তের ফলাফল প্রাপ্ত হলে তা হালনাগাদ করে প্রকাশ করা হবে।