নাটোর জেলা পুলিশের তৎপরতা, পেশাদারিত্ব ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে উদ্ধার করা হয়েছে জার্মান পর্যটক কিরিল ল্যান্ডার উইবারের (১৮) হারানো ল্যাপটপ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে উদ্ধারকৃত ল্যাপটপটি তাঁর হাতে তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জার্মান পর্যটক কিরিলের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি নাটোর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে জিডি নং-৫১২, তারিখ ৭ অক্টোবর ২০২৬, লিপিবদ্ধ করা হয়।
ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় নাটোর সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)সহ পুলিশের একাধিক দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন জার্মান নাগরিক কিরিল। ভারত যাওয়ার উদ্দেশ্যে নাটোর রেলস্টেশনে অপেক্ষা করার সময় তিনি ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ওয়েটিং রুমে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান। ফিরে এসে সেগুলো খুঁজে না পেয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান।
পরবর্তীতে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, পিপিএম-এর উদ্যোগ ও সমন্বয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে উদ্ধারকৃত ল্যাপটপটি পর্যটকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় দায়িত্বশীলতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নাটোর সদর থানার ওসি এবং জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আর্থিক প্রণোদনা দেন আইজিপি।
পুলিশের এ উদ্যোগকে বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাঁদের অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার এবং হারানো সম্পদ উদ্ধারে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি নাগরিকদের কাছে পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।