স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইইউ বৈঠক, নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে গুরুত্ব

স্টাফ রিপোর্টার
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালীকরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মাইগ্রেশন ইস্যুতে গুরুত্বারোপ

বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, মানবাধিকার কমিশনকে আরও কার্যকর করা এবং অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক বিষয়ক, রিটার্ন ও ভিসা সংক্রান্ত পরিচালক এবং ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মহাপরিচালক হেনরিক নিলসেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বৈঠকে অংশ নেয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা খাতের সংস্কার, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালীকরণ এবং স্বরাষ্ট্র বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনারের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি ভবিষ্যতে ইইউ’র সঙ্গে কৌশলগত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) শক্তিশালীকরণ এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত কয়েক মাসে সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানবাধিকার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কমিশনকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে মাইগ্রেশন ও মোবিলিটি ডায়ালগ বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং সব ধরনের অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালের ইইউ-বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) অনুযায়ী অনিয়মিত অভিবাসীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং মানব পাচার প্রতিরোধে উভয় পক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
বৈঠকে আগামী ১২ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন “অ্যাসাইলাম অ্যান্ড রিটার্ন বর্ডার প্রসিডিউর” নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান হেনরিক নিলসেন নিয়মিত ও বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে আগামী অক্টোবর মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের হোম অ্যাফেয়ার্স কমিশনার ম্যাগনাস ওসওয়াল্ড ব্রুনারের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরের বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পক্ষ এ সফরকে স্বাগত জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ইউরোপীয় কমিশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক ও মাইগ্রেশন সেক্টরের প্রধান আলেকজান্দ্রা ডোমানস্কাসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইইউ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত