নারায়ণগঞ্জে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান শুরু—সব থানাকে কঠোর নির্দেশ পুলিশ সুপারের।

| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান শুরু—সব থানাকে কঠোর নির্দেশ পুলিশ সুপারের।


স্টাফ রিপোর্টারঃ  নারায়ণগঞ্জ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত হলো অক্টোবর ২০২৫ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা। শনিবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার বিভিন্ন থানায় সংঘটিত চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা, মাদকসহ অন্যান্য অপরাধের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তারেক আল মেহেদী অক্টোবর মাসে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর সার্বিক অগ্রগতি এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন।

সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিপিএম (বার)। তিনি তাঁর বক্তব্যে অক্টোবর মাসে ডাকাতি ও দস্যুতা কমে আসায় সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে রাতে টহল বৃদ্ধি এবং হাইওয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যৌথ ক্রস পেট্রোলিংয়ের নির্দেশ দেন।

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান জরুরি

সভায় সর্বাধিক গুরুত্ব পায় লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের বিষয়টি। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান—
“সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, আড়াইহাজার থানা এবং পুলিশ লাইন্স থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ অতি দ্রুত উদ্ধারে এখনই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে যে কেউ তথ্য দিলে পুরস্কৃত করা হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে এই অস্ত্র উদ্ধার অভিযান।

জাতীয় নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে কঠোর নির্দেশনা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে আরও সতর্ক, পেশাদার ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থী এবং বঞ্চিত নেতাদের কর্মসূচি, সমাবেশ বা মিছিলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা

সভা শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হয়—

শ্রেষ্ঠ এএসআই: মামুনুর রশিদ (আড়াইহাজার থানা)

শ্রেষ্ঠ এসআই: জয়নাল আবেদীন (রূপগঞ্জ থানা)

ক্লুলেস মামলা ডিটেকশন: এসআই মোঃ রফিক, বিপিএম (ফতুল্লা মডেল থানা)

দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে সম্পাদন: ইন্সপেক্টর মোঃ আব্দুল কাইয়ূম (সদর কোর্ট)

গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিস্পত্তি: ইন্সপেক্টর মোঃ জামাল উদ্দিন (সদর মডেল থানা)

বছার্িক ফায়ারিং সাফল্য: এসআই কাজল মিয়া ও টিম

১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার: এএসআই মোঃ শাহারুল ইসলাম (রূপগঞ্জ থানা)

সাহসিকতা পুরস্কার: কনস্টেবল মোঃ হাওলাদার লপ্তি (আড়াইহাজার থানা)


সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারবৃন্দ, সার্কেল এএসপি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, সিআইডি, নৌপুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সব থানার অফিসার ইনচার্জগণ।

নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নাগরিক মহলের উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি অস্ত্র-গোলাবারুদ লুণ্ঠনের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন সচেতন মহল। তারা জানান, দ্রুত এই অস্ত্র উদ্ধার না হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত অভিযানের দাবি জানানো হয়েছে।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত