মাদ্রাসা শিক্ষককে ফেসবুকে অপপ্রচার, থানায় জিডি
স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ মাহবুব আলম ঃ
রাজধানীর মিরপুরে মাদকের আধিপত্য বিস্তার ও অপকর্ম ঢাকতে মাদরাসা শিক্ষককে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অপপ্রচারের অভিযোগ এসেছে। Crime Report নামে একটি ফেইসবুক পেজ থেকে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোঃ কামরুল হাসান (৩৫)। এ ঘটনায় কামরুল হাসান পল্লবী থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডি নং ৪৩৪।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর মিরপুর ১১, বি-ব্লক ডুইপ আবাসিক এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি হেরোইন মোস্তাক ও তার ছেলেদের সাথে স্থানীয় মিল্লাত ক্যাম্পের কিছু মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়। যেখানে ২০-২৫ জনের সাথে মাদ্রাসা শিক্ষক মোঃ কামরুল হাসানের ছবি সংযুক্ত করে কিছু ছবি ও ভিডিও আপলোড করে ফেইসবুক পেজ থেকে প্রচার করা হয়। অথচ ওই ঘটনার সময় কামরুল হাসান "বাউনিয়াবাধ ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা" তে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সুপরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে ভুক্তভোগী কামরুল হাসান গণমাধ্যমে বলেন, "আমি এই মহল্লার একজন স্থানীয় বাড়িওয়ালার ছেলে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সম্মানের সাথে মহল্লায় বসবাস করছি এবং বরাবরই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছি। যার কারণে কয়েকটি মাদক কারবারি গ্রুপের নিকট হয়েছি চক্ষুশূল। যার মধ্যে চিহ্নিত মাদক কারবারি হেরোইন সম্রাট মোস্তাক ও তার ছেলে ইয়াবা সুমন গ্যাং অন্যতম। তবুও একজন মাদ্রাসা শিক্ষক হিসেবে যুব সমাজকে বাঁচাতে নৈতিক দায়িত্ব থেকে আমি মাদকের বিরুদ্ধে এখনো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। এমনকি আমি মার খেয়ে মামলা করে নিজের বাড়ি ছাড়া হয়েছি। তবুও কতিপয় অসাধু গ্রুপ আমার ও আমার পরিবারের সম্মান নষ্ট করতে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।"
অপপ্রচার চালানো ওই ঘটনার সাথে কামরুল হাসানের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, "নভেম্বরের ৩ তারিখে মহল্লায় যে সময় গোলাগুলি হয়, আমি তখন আমার কর্মস্থল বাউনিয়াবাধ ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলাম। যার সিসিটিভি ফুটেজ এবং আমার প্রতিটি সহকর্মী স্বাক্ষী ও প্রমাণ। কিন্তু দুঃখের বিষয়- কয়েকটি মাদক চোরাকারবারি চক্র আমাকে ফাঁসাতে ও আমার সম্মান নষ্ট করতে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে Crime Report নামে একটি ভুঁইফোঁড় পেজে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে আমি ও আমার পরিবার সমাজে হেয় হচ্ছি এবং আইনগতভাবেও জটিলতায় পড়তে পারি। সঙ্গত কারণেই আমি ৫ নভেম্বর পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। আমি চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।"
ভুক্তভোগী কামরুল হাসানের দেয়া তথ্য থেকে দেখা যায়, Crime Report (https://www.facebook.com/share/v/1DgrLkocZM/) নামে একটি ফেইসবুক পেজে কিছু ব্যক্তির ছবি, ভিডিও এবং নামসহ পোস্ট করা হয়েছে। যেখানে Dhaka Mirpur সহ ৯৮ টি আইডি, পেজ ও গ্রুপকে ট্যাগ করা হয়েছে। কামরুল হাসানের ভাষ্যমতে- তিনি ওই পেজের ইনবক্সে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কেউ কোনো সাড়া দেয়নি। ফলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সত্যতা নিশ্চিত হতে কামরুল হাসানের কর্মস্থল বাউনিয়াবাধ ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় যোগাযোগ করা হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, "কামরুল হাসানের নামে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং টার্গেট করে করা হচ্ছে। কারণ ঘটনার দিন কামরুল হাসান মাদ্রাসাতেই ছিলেন। তাহলে ডুইপে তিনি কিভাবে গেলেন ? আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।"
উল্লেখ্য, মিরপুরের মিল্লাত ক্যাম্প ও ডুইপ প্লটের মাদক সম্রাট মোস্তাক ও ছেলেদের নামে ইতোপূর্বে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি কোন্দলের জেরে ভুক্তভোগী কামরুল হাসান ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট মাদক কারবারি মোস্তাক অরফে হেরোইন মোস্তাক ও তার ছেলেদের নামে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই জীবন বাঁচাতে কামরুল হাসান নিজেের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আজ অবধি তার কোনো সুরাহা হয়নি, বরং ঝামেলা ক্রমশ জটিল হচ্ছে।