তুষারধারা কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ইলিয়াস খান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম নির্বাচিত।
স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানীর কদমতলী থানাধীন তুষারধারা আবাসিক এলাকার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন তুষারধারা কল্যাণ সমিতির ২০২৬–২০২৭ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরে ১৯৯০ সালে নিবন্ধিত সমিতিটি প্রতিষ্ঠার ৩৫ বছর পরও দীর্ঘদিন পকেট কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। ২০১১ সালে প্রথমবার গোপন ব্যালটে নির্বাচন এবং সাত বছরের বিরতির পর দ্বিতীয়বার ২০১৮ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আবারও স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে সাত বছর পর এবার তৃতীয়বারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল।
গত ২৮ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক হাজার সদস্যের এই সংগঠনে নিয়মিত চাঁদা প্রদানকারী প্রায় ১,৩০০ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। তাদের মধ্যে ১,০৩৭ জন সরাসরি ভোট দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। স্থানীয় যুব ফোরাম, ফ্রেন্ডস ফরএভার অ্যাসোসিয়েশন ও ইকরামুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন পুরো প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে।
জাতীয় নির্বাচনে অভিজ্ঞ প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুর হোসেন বলেন, “এলাকাবাসীর ব্যাপক অংশগ্রহণে নির্বাচন অত্যন্ত উৎসবমুখর হয়েছে। ১,৩০০ ভোটারের মধ্যে ১,০৩৭ জন ভোট প্রদান করায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে ডিজিটাল যুগে এনালগ পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় ধরে ফল গণনা করতে হয়েছে, যা সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়।”
১৮টি পদে মোট প্রায় ১৮,৭০০ ভোট গণনায় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় লাগে। সবশেষে সকাল ৭টায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচনে বিজয়ীরা
সভাপতি: হাজি ইলিয়াস খান
সাধারণ সম্পাদক: হাজি জাহাঙ্গীর আলম
সাংগঠনিক সম্পাদক: শাহ আলম
সিনিয়র সহ-সভাপতি: প্রিন্সিপাল আসাদুজ্জামান
সহ-সভাপতি: জাকারিয়া শরীফ, এফ.এম. কামরুজ্জামান
দফতর সম্পাদক: নোওয়াজ শরীফ
অর্থ সম্পাদক: মাসুদুর রহমান ঢালী
প্রচার সম্পাদক: মোশারফ হোসেন
ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: আমিনুল ইসলাম আমিন
সদস্য পদে আটজন নির্বাচিত হন। এর মধ্যে মাসুদ বকাউল সর্বোচ্চ ৭০৮ ভোট পেয়ে প্রথম, এবং সোহেল আহমেদ ৬৭১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।
নির্বাচিত সভাপতি ইলিয়াস খান ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এবারের নির্বাচন ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতিফলন। সামনের দিনগুলোতে প্রতি মেয়াদে নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করব।”