মুন্সীগঞ্জে হিন্দু নারী কবিরাজকে শ্বাসরোধে হত্যা: কবরস্থানে প্রবেশ নিয়ে ক্ষোভ, আসামী গ্রেফতার, রহস্য উদঘাটনে পিবিআই

নিউজ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জে হিন্দু মহিলা কবিরাজের কবরস্থানে প্রবেশ ও চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষোভে হত্যা, রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার করল পিবিআই, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি 

 

নিউজ ডেস্ক:

২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর বিকালে সিরাজদিখান থানাধীন জৈনসর ইউনিয়নের অর্ন্তগত চাইনপাড়ায় ভিকটিম রেখা রাণী রায় (৬৫) নিখোঁজ হয় এবং পরের দিন গ্রামের ধান ক্ষেতে ভিকটিম এর দুই হাত,পা গামছা বেঁধে গলায় ভিকটিমের শাড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে সিরাজদিখান থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৮, তাং-১৬/১০/২০২৪)।

 

সিরাজদিখান থানা পুলিশ ২৯ দিন মামলাটি তদন্ত করার পরে পিবিআই, মুন্সীগঞ্জ জেলা মামলাটি স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে। ভিকটিমের প্রতিবেশি মীর হোসেন (৪৮) এর পলাতক থাকা, তাকে ভিকটিম কর্তৃক চিকিৎসা না দেওয়া ইত্যাদি কারণে পিবিআই এর সন্ধেহ সৃষ্টি হয় যে, সে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত। 

 

পিবিআই টাঙ্গাইল, সিরজাগঞ্জ জেলাসহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন যায়গায় পালিয়ে ছিলো। গত ০২/০৩/২৬ খ্রিঃ রাত ১২.০০ ঘটিকার সময় পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানাধীন তন্তর ইউনিয়নের বারিগাঁও এলাকা হতে আসামী মীর হোসেন (৪৮) কে গ্রেফতার করেন। আসামী মীর হোসেন (৪৮) মামলার হত্যাকান্ডের সহিত জড়িত মর্মে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে। 

 

আসামী তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, ভিকটিম রাণী রায় (৬৫) বিভিন্ন সময় মানুষকে বনজ ঔষধ দিতেন। দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা থাকায় তিনি তার ছেলে শিহাবকে দিয়ে ভিকটিম রাণী রায়কে দাঁতের ঔষধ দেওয়ার জন্য ডাকেন। তবে তিনি তার বাড়িতে আসেননি। পরবর্তীতে গত ১৫/১০/২০২৪ খ্রিঃ তারিখ বিকালে আসামী মীর সামাজিক কবরস্থান পরিষ্কার করতে যান। মাগরিবের নামাজের প্রায় ১০ মিনিট পূর্বে ভিকটিম রাণী রায় কবরস্থানে এসে প্রবেশ করতে চাইলে আসামী মীর হোসেন হিন্দু মহিলা বিধায় কবরস্থানে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। কিন্তু ভিকটিম বাধা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক কবরস্থানে প্রবেশ করতঃ পুরাতন ও ভাঙা কবর থেকে মাটি ও গাছের শিকড় তোলার চেষ্টা করলে ভিকটিমের সঙ্গে আসামীর তর্ক বিতর্ক, ধাক্কা-পাল্টা ধাক্কার ঘটনা ঘটে। এতে আসামী মীর হোসেন রাগান্বিত হয়ে ভিকটিম রাণী রায়ের পরিহিত শাড়ির আঁচল দিয়ে তার গলায় প্যাঁচিয়ে ধরেন, যার ফলে ভিকটিম মারা যায়। আসামী মীর হোসেন তার কোমরে থাকা গামছা ছিঁড়ে রাণী রায়ের দুই হাত ও দুই পা বেঁধে টেনে হিঁচড়ে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে পাশ্ববর্তী ধানক্ষেতের পানিতে ফেলে দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। 

 

মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত