টানা ৩৯ দিন ধরে দিন-রাত উপেক্ষা করে অধিকার আদায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

নিউজ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: খাইরুল ইসলাম ম
ছবি: খাইরুল ইসলাম ম

টানা ৩৯ দিন ধরে দিন-রাত উপেক্ষা করে অধিকার আদায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

প্রতিবেদন: খাইরুল ইসলাম

টানা ৩৯ দিন ধরে রোদ, বৃষ্টি ও শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে অধিকার আদায়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের এই মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক আন্দোলন অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর, মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই নীরবতা যেন ইচ্ছাকৃত উপহাসের মতো— যা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বহীনতার চরম উদাহরণ এবং ক্ষমতার ঔদ্ধত্য ছাড়া আর কিছুই নয়।

অন্যদিকে মন্ত্রণালয় বড় বড় ব্যানার–ফেস্টুন টানিয়ে ‘প্রতিবন্ধী দিবস’ উদযাপনে ব্যস্ত। কিন্তু যারা প্রতিবন্ধী শিক্ষার মূল দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে মাঠে কাজ করেন, সেই শিক্ষক–কর্মচারীদের দুর্দশা উপেক্ষা করাকে আন্দোলনকারীরা বৈষম্যের নগ্ন রূপ হিসেবে দেখছেন।

তাদের অভিযোগ, ক্ষমতার করিডোরে বসে সমতা, ন্যায় ও মানবিকতার গল্প বললেই বাস্তবে সমতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে তবেই সমতার ভিত্তি দাঁড়ায়। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ন্যায়বিচার প্রকাশ্যেই পদদলিত হচ্ছে।

শিক্ষকরা বলেন, রাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধের কথা বলে, রাষ্ট্রীয় দিবসে শপথ করে, জনগণের কাছে ভোট চায়— কিন্তু বাস্তবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। যে দেশে শিক্ষকরা অধিকার আদায়ে রাজপথে থাকতে বাধ্য হন আর প্রশাসন সেখানে নীরব থাকে, সেখানে স্বাধীনতার চেতনাকে বাস্তব প্রয়োগে অবমাননা করা হয়।

আন্দোলনরত শিক্ষক–কর্মচারীরা প্রশ্ন তুলেছেন— ক্ষমতাসীনদের এই উদাসীনতাই কি “সমতা ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি?

উল্লেখ্য, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক–কর্মচারীদের চলমান আন্দোলন শুরু হয়েছে ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে। আজ ৩ ডিসেম্বর ২০২৫— আন্দোলনের ৩৯তম দিনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেই তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত