নারায়ণগঞ্জের তরুণ এমএমএ ফাইটার নাফিজ আহমেদের স্বপ্ন—বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা।

স্টাফ রিপোর্টার
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক।
ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক।

সিয়াম হোসেন:

বাংলাদেশে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ)। নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণ এখন এই কমব্যাট স্পোর্টসকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তাদের মধ্যেই একজন সম্ভাবনাময় ফাইটার হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার তরুণ এমএমএ যোদ্ধা নাফিজ আহমেদ।

 

ছোটবেলা থেকেই কমব্যাট স্পোর্টসের প্রতি ছিল নাফিজের গভীর আগ্রহ। তার মার্শাল আর্ট যাত্রার শুরু হয় স্কুল মাঠে কুংফু অনুশীলনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে মুয়ে থাইয়ের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন একজন পেশাদার ফাইটার হিসেবে। ক্লাস ফাইভ থেকেই নিয়মিত মার্শাল আর্ট চর্চা করতে করতে একসময় এমএমএ-তে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন গড়ে ওঠে তার।

 

নাফিজ জানান, পরিবারের পূর্ণ সমর্থনই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। সেই অনুপ্রেরণাকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি যোগ দেন “হাবিবস এমএমএ ফাইট ক্লাব”-এ। সেখান থেকেই শুরু হয় তার পেশাদার এমএমএ ক্যারিয়ারের কঠোর প্রস্তুতি।

 

সম্প্রতি গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত “KHAR-8” এমএমএ প্রমোশনে হেভিওয়েট ডিভিশনে অংশগ্রহণ করেন নাফিজ আহমেদ এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জয়লাভ করেন। এর আগেও “KHAR-3” ইভেন্টে অংশ নিয়ে বিজয় অর্জন করেছিলেন তিনি।

 

বর্তমানে “KHAR” প্রমোশন বাংলাদেশের এমএমএ অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে আসছে একের পর এক প্রতিভাবান ফাইটার। নাফিজ আহমেদ নিজেকেও সেই সম্ভাবনাময় যোদ্ধাদের একজন হিসেবে দেখছেন।

 

তিনি বলেন, “আমি এখন ভবিষ্যতের জন্য আরও কঠোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। সামনে মিডলওয়েট ডিভিশনে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। আমার স্বপ্ন একদিন ইউএফসি ও ওয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মতো আন্তর্জাতিক বড় বড় প্রমোশনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা।”

 

তার মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে দরকার নিয়মিত অনুশীলন, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য পরিশ্রম। সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রতিদিন নিজেকে আরও শক্তভাবে প্রস্তুত করছেন এই তরুণ ফাইটার।

 

নাফিজ আহমেদ বিশ্বাস করেন, মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি বলেন—

 

> “আমি মনে করি অসম্ভব বলতে দুনিয়াতে কিছুই নাই। মানুষ চেষ্টা করলেই সব পারে। সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করে মানুষ যে জিনিসের প্রতি ধাবিত হয়, সৃষ্টিকর্তা তাকে ওই জিনিসে সাফল্য দেয়।”

 

 

 

বাংলাদেশের এমএমএ অঙ্গনে নাফিজ আহমেদের মতো তরুণদের উত্থান নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোর স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে চলেছেন তিনি।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত