অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযানে টাঙ্গাইল ও মুন্সিগঞ্জে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং অস্ত্র বিক্রির ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১৪-এর যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোররাতে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় একটি বাসে অভিযান চালিয়ে প্রথমে মোঃ বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুজন বেপারী (৩৮) ও তার বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর রাত ২টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১১-এর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৪-এর একটি আভিযানিক দল যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকার চেকপোস্টে ‘রিয়াজ পরিবহন’ নামের একটি বাসে তল্লাশি চালায়। এ সময় বাসে থাকা একটি হারমোনিয়ামের ভেতরে কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলিসহ বারেক ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক জানান, উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলির চালানটি মুন্সিগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছিলেন বলে তিনি জানান।
এরপর প্রাপ্ত তথ্য যাচাই ও অভিযানের ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল ৭টার দিকে এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানির একটি দল মুন্সিগঞ্জ সদর থানার শিলই এলাকায় সুজন বেপারীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় সুজন বেপারী ও তার বড় ভাই মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং অস্ত্র বিক্রির ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় পৃথক নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ স্লোগানকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জঙ্গিবাদ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কাজ করে আসছে এসআরবি। অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ, সন্ত্রাস দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।