ফ্যাসিবাদমুক্ত জাতি গঠনে প্রবাসীদের কার্যকর ভূমিকা লেখক: মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ

ফ্যাসিবাদমুক্ত জাতিগঠনে প্রবাসীদের কার্যকর ভূমিকা -হারুনুর রশিদ চেয়ারম্যান, কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল লন্ডন ভূমিকা একটি জাতির শক্তি কেবল তার ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বসবাসরত মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। দেশের বাইরে ছড়িয়ে থাকা নাগরিক ও বংশোদ্ভূত মানুষেরাও সেই জাতির প্রাণশক্তির অংশ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ কথা আরও বেশি সত্য। প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখেননি; ইতিহাসের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তাঁরা স্বাধীনতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত তাঁদের ভূমিকা প্রমাণ করে, প্রবাসীরা দূরে থেকেও জাতির ভাগ্য নির্ধারণে সক্রিয় অংশীদার। আজ বাংলাদেশ এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর একটি জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে। এই রাষ্ট্র নির্মাণে প্রবাসীদের কীভাবে কার্যকরভাবে যুক্ত করা যায়, সেটিই এই প্রবন্ধের মূল জিজ্ঞাসা। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করছেন। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠী একরকম নয়। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নারী-পুরুষ নির্মাণ, সেবা, পরিবহন ও গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত। সেখানে চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও শিক্ষকের মতো দক্ষ পেশাজীবীরাও কাজ করছেন। অন্যদিকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি অভিবাসনের ইতিহাস তুলনামূলক দীর্ঘ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বহু বাংলাদেশি এসব দেশে পাড়ি জমান। যুক্তরাজ্যে আজ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চতুর্থ প্রজন্মের ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছেন। তাঁরা সেখানকার সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে শিক্ষা, চিকিৎসা, আইন, ব্যবসা ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কেউ কেউ সংসদ সদস্য, মেয়র এমনকি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যান। তাঁদের অনেকে পরে সেখানেই গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা কিংবা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ফলে প্রবাসী সমাজ আজ শুধু শ্রমশক্তির উৎস নয়, এটি জ্ঞান, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের এক বিশাল ভাণ্ডার। অর্থনীতির নীরব স্তম্ভ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান সবচেয়ে দৃশ্যমান হয় রেমিট্যান্সের মাধ্যমে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা প্রায় ৩৫.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। এই অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে, আমদানি ব্যয় মেটায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখে। লাখো পরিবারের সন্তানের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও বাসস্থানের নিরাপত্তা নির্ভর করে এই অর্থের ওপর। কিন্তু রেমিট্যান্সের আরেকটি দিকও আছে, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় স্পষ্ট হয়েছে। অর্থনৈতিক শক্তি কেবল উন্নয়নের হাতিয়ার নয়, এটি নৈতিক প্রতিবাদেরও ভাষা হতে...

$post['title']

তাহিরপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন, প্রেমিক পলাতক,বিয়ে না করলে আত্মহত্যা হুমকি

$post['title']

জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবিতে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মানববন্ধন, ১১ দফা প্রস্তাব ঘোষণা

$post['title']

ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

$post['title']

টোল ফ্রি করার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘সড়ক ভবন ঘেরাও’

$post['title']

বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহার ও শিক্ষার্থীদের হাফ পাস ২৫ টাকার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে ছাত্র ফেডারেশনের স্মারকলিপি