কলাম লেখক: সাংবাদিক মোঃ সোহেল
শিক্ষা কোনো দায়সারা সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো অটোপাশ, নকলপ্রীতি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আন্দোলনের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিল। কিন্তু বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষাখাতে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, তা এক কথায় অভূতপূর্ব। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখার প্রেরণা জোগাচ্ছে।
আজ শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা নিবেদিতপ্রাণ হয়ে পাঠদান করছেন, শিক্ষার্থীরা ফিরে আসছে পাঠ্যবইয়ের মগ্নতায়। অতীতে যারা ‘অটোপাশ’ বা ‘নকলপাশ’-কে সংস্কৃতির অংশ বানিয়ে ফেলেছিলেন, আজকের এই কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক শাসন তাদের জন্য এক বড় বার্তা। বিশেষ করে, স্কুল-কলেজে ফাঁকি দিয়ে টিকটক, অনলাইন গেইম কিংবা প্রেমের নামে সময় নষ্ট করে শেষে ফলাফল বিপর্যয়ের পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার যে হীন সংস্কৃতি—তা এখন প্রশ্নের মুখে। মেধা যেখানে মূল্যায়িত হয় না, সেখানে আর্তনাদ কোনো সমাধান নয়। সরকার আজ বদ্ধপরিকর—একটি সুশিক্ষিত জাতি গড়তে যে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে কোনো আপস করা হবে না।
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা,
তোমাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান—তোমাদের এই তারুণ্য আগুনের মতো উজ্জ্বল, একে ব্যর্থতায় ধোঁয়া করে দিও না। মনে রেখো, জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ কোনো দামী ফোন বা বিলাসিতা নয়, বরং তোমাদের ‘পড়ার টেবিল’। পৃথিবীর বুকে নিজেদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তোমরা যখন পরীক্ষার হলে বসো, তখন তোমরা কেবল একজন পরীক্ষার্থী নও, তোমরা আগামী দিনের বাংলাদেশ। ফাঁকি দিয়ে অর্জন করা সনদ তোমাদের কর্মক্ষেত্রে কোনোদিন সম্মান এনে দেবে না, বরং তোমাদের মেধার পরিচয়ই তোমাদের পরিচয় বহন করবে।
রাষ্ট্র যে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা তোমাদের ধ্বংস করার জন্য নয়, বরং তোমাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে আগামীর যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। আসুন, আন্দোলনের নামে সময় নষ্ট না করে জ্ঞান আহরণে মনোযোগী হই। নকলমুক্ত পরীক্ষা এবং মেধাবী শিক্ষার লড়াইয়ে তোমরা রাষ্ট্রকে শক্তি দাও।
মনে রেখো, প্রতিটি সফল মানুষের সাফল্যের পেছনে থাকে সেই নির্ঘুম রাত, যা অতিবাহিত হয় পড়ার টেবিলে। তোমরাই আমাদের আশা, তোমরাই ভবিষ্যৎ। জাতির স্বার্থে, নিজেদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে—এসো, আমরা শিক্ষার এই নতুন ভোরে মেধার জয়গান গাই।