বাংলাদেশে বিদেশি বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য: আইনি সুরক্ষায় জননিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার সুপারিশ

স্টাফ রিপোর্টার
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া সহস্রাধিক বিদেশি ও বিষাক্ত বন্যপ্রাণী দেশে চলমান অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বন বিভাগের সাম্প্রতিক তৎপরতা সত্ত্বেও যেভাবে এসব প্রাণী বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে, তা জননিরাপত্তা ও জাতীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

 

​আইনি সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, অনুমতি ব্যতীত বিদেশি বন্যপ্রাণী আমদানি বা সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বৈধ আমদানির আড়ালে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারের পথ সুগম করছে। বিমানবন্দরসহ প্রবেশপথগুলোতে নজরদারির অভাবকে পুঁজি করে কীভাবে এসব প্রাণী দেশে প্রবেশ করছে, তা এখন বড় প্রশ্ন।

​অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে আমাদের সুপারিশ:

​১. প্রবেশপথে বায়ো-সিকিউরিটি জোরদার: শুধু চোরাচালান পণ্য নয়, বিমানবন্দরের কাস্টমস ও কার্গো শাখায় বন্যপ্রাণী শনাক্তে দক্ষ জনবল এবং উন্নত স্ক্যানিং প্রযুক্তি মোতায়েন করা প্রয়োজন।

 

২. বাজার মনিটরিং সেল গঠন: বন বিভাগ, র‍্যাব ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি নিয়মিত মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে, যারা অনলাইনে বা গোপন আস্তানায় বন্যপ্রাণী বেচাকেনার দিকে নজর রাখবে।

 

৩. ইকোলজিক্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট: পরিবেশ অধিদপ্তরের সহায়তায় এসব বিদেশি প্রাণী স্থানীয় প্রকৃতিতে মিশে গেলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, তার একটি বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট তৈরি করে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা।

 

৪. সচেতনতা ও আইনি বার্তা: বিদেশি প্রাণী পোষা যে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি যে সংক্রামক রোগ বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ায়, তা নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো।

 

৫. তথ্যের উৎস ও হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা: যারা বন্যপ্রাণী পাচারের গোপন তথ্য দিচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে যাতে অপরাধীরা দ্রুত আইনের আওতায় আসে।

 

 

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিসম্পদ কল্যাণ সংস্থাগুলোর মতে, "শখের পোষা প্রাণী"র আড়ালে যে চোরাচালান চলছে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে অপরাধের উৎসমুখ বন্ধ করা জরুরি। কেবল অভিযান চালিয়ে এসব প্রাণী উদ্ধারই যথেষ্ট নয়, বরং এই বাণিজ্যের সাথে জড়িত রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

 

​বাংলাদেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বন্যপ্রাণীর অবৈধ পাচার রোধে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আরও কঠোর ও সমন্বিত উদ্যোগই এখন একমাত্র কাম্য।

বিষয়:

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত