নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া জাপানপ্রবাসী পরিবারের গাড়ি থামিয়ে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত চার ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ ছিনতাই হওয়া বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মো. নুরুল হক (৭৯) এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ জুলাই তিনি, তার জাপানপ্রবাসী ছেলে ও ছেলের পরিবার একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পৌঁছালে ৩-৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল লেজার লাইটের মাধ্যমে গাড়ি থামিয়ে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গাড়ির চাবি, একাধিক মোবাইল ফোন, নগদ ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, ভ্রমণ ব্যাগসহ মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। মামলার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) দীপংকর ঘোষের তদারকিতে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম সারোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঢাকা, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার বারৈয়ারহাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে চার ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. কবির হোসেন (৪০), জুয়েল (২৬), সজিব (২৯) ও শাকিল (২৬)। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মাগুড়া প্লট এলাকার একটি বাগান থেকে প্রায় ৮ ভরি ৭ আনা ৫ রতি স্বর্ণালংকার, একটি ট্রলি ব্যাগ, দুটি ট্রাভেল ব্যাগ, একটি স্কুল ব্যাগ ও একটি ভ্যানেটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত কবির একজন পেশাদার ডাকাত। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনের ১৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।