স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে নগরীর জিমখানা ও ঋষিপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে জেলার সাতটি থানায় সমন্বিত বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ১০৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর ঋষিপাড়া এলাকায় অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। অভিযান প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, “নারায়ণগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।” তিনি জানান, এরই ধারাবাহিকতায় রোববার জেলার সাতটি থানায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সদর মডেল থানায় ২২ জন, ফতুল্লা মডেল থানায় ৩১ জন, সোনারগাঁ থানায় ৫ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৪ জন, বন্দর থানায় ১১ জন, আড়াইহাজার থানায় ৫ জন এবং রূপগঞ্জ থানায় ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে এটিকে একটি শান্তিপূর্ণ মডেল জেলায় রূপান্তর করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। নারায়ণগঞ্জকে বাংলাদেশের রোডমডেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জনগণের সহযোগিতা পেলে আমরা এ লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হব।” এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাছিনুজ্জামান, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জেলার সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, নতুন পুলিশ সুপারের কার্যক্রমে নারায়ণগঞ্জবাসী আশাবাদী। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরীর দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট নিরসনেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, পুলিশের কঠোর অবস্থান ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারায়ণগঞ্জে অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।