প্রকাশ : ... | ... | ...

আইন পেশা থেকে মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ


সংযুক্ত ছবি

জামালপুরবাসীর গর্ব, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের পক্ষে দীর্ঘদিনের সোচ্চার কণ্ঠ। বিশেষ প্রতিনিধি: আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের কথা বললেই যাঁদের নাম সামনে আসে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছরের আইন পেশাজীবনে তিনি আদালতে যেমন অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেছেন, তেমনি পেশার বাইরেও নিজেকে যুক্ত রেখেছেন সমাজসেবা ও মানবাধিকারমূলক নানা কর্মকাণ্ডে। জামালপুরের সন্তান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছাত্রজীবন থেকেই মেধা, অধ্যবসায় ও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে আসছেন। স্থানীয় জে.এন.জি. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় প্রতিটি শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি ১৯৭৭ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে মেধাভিত্তিক সরকারি বৃত্তি লাভ করেন তিনি। পরে জামালপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী জামালপুর হাই স্কুলে অধ্যয়নকালে ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের পরিচয় দেন এবং ১৯৭৯ সালে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি বৃত্তি অর্জন করেন। ১৯৮২ সালে চার বিষয়ে লেটার মার্কসসহ বিজ্ঞানে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এরপর বৃহত্তর জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে বিজ্ঞানে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। উচ্চশিক্ষায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে সমাজকল্যাণ বিষয়ে এমএসএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। আইন পেশায় দীর্ঘ পথচলা: ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে সনদ লাভ করেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। একই সময়ে তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি লাভ করেন এবং ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ অর্জন করেন। দীর্ঘদিন হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশায় নিয়োজিত থাকার পর ২০১৩ সালে আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনার সনদ লাভ করেন তিনি। এরপর থেকে সুনামের সঙ্গে আপিল বিভাগেও আইন পেশা পরিচালনা করে আসছেন। সিভিল, ক্রিমিনাল ও রিট—বিভিন্ন ধরনের মামলায় তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। পেশাগত জীবনে তাঁর অন্যতম শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক ছিলেন তৎকালীন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী প্রয়াত আব্দুল হামিদ চৌধুরী। আলোচিত মামলায় আইনি লড়াই: দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বেশ কয়েকটি আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আইনি লড়াই করেছেন। জামালপুরের মেলান্দহ থানার নান্নু মিয়া বনাম রাষ্ট্র ফৌজদারি আপিল মামলায় তিনি প্রতিপক্ষের একাধিক প্রখ্যাত আইনজীবীর সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন। এছাড়া ঢাকার চিড়িয়াখানার বাঘ হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের খালাসে ভূমিকা রাখেন। রিট মামলায় ঝাওলা গোপালপুর কলেজের অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেনের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাঁকে স্বপদে বহালের আদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি আইনি লড়াই করেন। এর বাইরে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে অসংখ্য সিভিল, ক্রিমিনাল ও রিট মামলা পরিচালনা করেছেন এই আইনজীবী। পেশার পাশাপাশি সমাজসেবায় সক্রিয়: আইন পেশার পাশাপাশি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকারমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গবেষণা ও মানবাধিকারমূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি শেরেবাংলা স্মৃতি সম্মাননা পদক-২০১৭, বিচারপতি সৈয়দ আমীর আলী স্বর্ণপদক এবং নেলসন ম্যান্ডেলা গোল্ড মেডেলসহ বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেছেন বলে জানা যায়। রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থেকেও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। ২০০১ সালে জামালপুর-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। একইভাবে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সেক্রেটারি পদেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। রোটারিয়ান হিসেবেও দায়িত্ব পালন: সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রোটারি আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত। তিনি রোটারি ক্লাব ইস্কাটন, ঢাকার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮১-এর সহকারী গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্বও পালন করেছেন। পরিবারেও শিক্ষার আলো: ব্যক্তিজীবনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বিবাহিত এবং দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তাঁর দুই ছেলে কুরআনের হাফেজ। তাঁরা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে ফাজিল (অনার্স) ও এমএ (কামিল) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বড় ছেলে বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় এবং ছোট ছেলে আইন বিষয়ে অধ্যয়নরত। তাঁর একমাত্র কন্যা বর্তমানে এইচএসসি পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। ধর্মীয় ও মানবিক জীবনেও অনন্য: মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ইতোমধ্যে তিনবার হজ পালন করেছেন। এর মধ্যে মরহুম পিতা-মাতার জন্য বদলি হজও পালন করেছেন বলে জানা যায়। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হজ পালনের পাশাপাশি স্ত্রী-কন্যাসহ ওমরাহও পালন করেছেন তিনি। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উঠে আসে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি। বিশেষ করে বৃহত্তর জামালপুর জেলার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মামলাগুলো উচ্চ আদালতে পরিচালনার মাধ্যমে তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন তিনি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য: মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কর্মজীবনের দীর্ঘ পথচলায় আইন পেশা যেমন তাঁর জীবনের প্রধান পরিচয়, তেমনি সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমাজসেবাও তাঁর কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাঁর বিশ্বাস—আইন কেবল আদালতে মামলা পরিচালনার বিষয় নয়; আইনের মূল উদ্দেশ্য মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চান তিনি। জামালপুরের মাটি থেকে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে দীর্ঘদিন আইন পেশায় দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর এই পথচলা নতুন প্রজন্মের জন্য নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। ভবিষ্যতেও মানুষের সেবা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান তিনি। নিজের ও পরিবারের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন এই আইনজীবী ও সমাজসেবক।