খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় টেলিটক টাওয়ারের তার চুরি ও গুইমারা উপজেলার বুদংপাড়া এলাকায় রবি টাওয়ারের তার কেটে দিয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিছিন্ন করে দিয়েছে দূর্বত্তরা। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাওয়ার দুটিতে তার কাটা ও চুরির ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় টেলিটকের ৪৫ নম্বর টাওয়ারে তার কেটে নিয়ে যায়। অপরদিকে একই রাতে গুইমারা উপজেলার বাইল্যাছড়ি বুদং পাড়ায় ৩ নম্বর রবি-এয়াটেল-টেলিটকের যৌথ টাওয়ারের তার কেটে দিয়ে যায় দূর্বত্তরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা জানান, নেটওয়ার্ক না থাকায় তাদের মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ক্লাস, জরুরি যোগাযোগ সব বন্ধ হয়ে আছে। নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন প্রতিষ্ঠান গুলোর বিপুলসংখ্যক গ্রাহক। বাজারের ব্যবসায়ী মো. করিম মিয়া বলেন, আমরা বিকাশ, নগদের ব্যবসা করি। নেট না থাকায় গত কাল থেকে লেনদেন বন্ধ। কাস্টমার ফিরে যাচ্ছে। ওরা আরো বলেন. সেখানে নেই কোনো স্থায়ী প্রহরী, নেই সিসি ক্যামেরা বা আলোর ব্যবস্থা। এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে চোরচক্র। এবিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন বলেন, গৌমতি ইউনিয়নে শান্তিপুর বাজারের টাওয়ারের তার চুরির ও গুইমারা উপজেলার বুদংপাড়া এলাকায় টাওয়ারের তার কেটে দিয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিছিন্ন বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। আমাদের টেকনিক্যাল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দ্রæততার সাথে মালামাল প্রতিস্থাপন করে নেটওয়ার্ক সচল করার কাজ চলছে। এবিষয়ে মাটিরাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সাহেদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই বিষয়ে মাটিরাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পরপর আমি ঘটনাস্থ পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রযোজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সরোওয়ার্দী জানান, বুধং পাড়ায় টাওয়ারটি একাধিক মোবাইল অপারেটর ব্যবহার করে। মুলত টাওয়ারটির মালিক রবি নেটওয়ার্ক কোম্পানি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তার কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে অপারেটরগুলোর অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে প্রযোজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু মেরামত নয়, টাওয়ার গুলোতে স্থায়ী প্রহরী নিয়োগ, সোলার লাইট ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং রাত্রিকালীন পুলিশি টহল জোরদার করা হোক। অন্যথায় ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন এই দুর্গম পাহাড়ে মুখ থুবডয়ে পড়বে।