প্রকাশ : ... | ... | ...

শীতের শুরুতেই টেকনাফে কাঁচা আমের আগমন দাম চড়া, বাজারে উৎসবের আমেজ।


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: কাচা আমের ছবি।

শীতের শুরুতেই টেকনাফে কাঁচা আমের আগমন দাম চড়া, বাজারে উৎসবের আমেজ। গরমের শুরুতেই সাধারণত বাজারে কাঁচা আমের দেখা মেলে। কিন্তু এবারে সেই পরিচিত চিত্র বদলে গেছে। শীতের শুরুতেই কক্সবাজারের টেকনাফের বিভিন্ন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা আম, আর এ আগাম সৌগাত ঘিরে ক্রেতাদের মাঝে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। স্বাভাবিকভাবেই দামও ছুঁয়েছে আকাশ। টেকনাফের বাজারে কাঁচা আম প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ সীমিত হওয়ায় দরদাম করেও অনেক ক্ষেত্রে ৪৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের মতে, সাধারণত জুন মাসে টেকনাফে কাঁচা আম বাজারে আসে। তবে এবার কয়েক মাস আগেই ফলন হওয়ায় আগাম জাতের এই আম বাজারে এসেছে। ক্রেতাদের আগ্রহ থাকলেও সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মোনাফ জানান, বাড়তি আয়ের আশায় চাষিরা আঁটি শক্ত হওয়ার আগেই আম পাড়ছেন। তার মতে, বৈশাখের পর সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে। অন্যদিকে, বিক্রেতা আব্দুল মান্নান বলেন, এই আগাম আম মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্রেতাদের জন্য—বিশেষ করে যাঁরা পরিবারে স্ত্রী, বোন বা বান্ধবীর খুশির জন্য কিনছেন। তিনি আশা করছেন, শিগগিরই সব ধরনের আম বাজারে এলেই দাম স্বাভাবিক হবে। ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া। আব্দুল রায়হান শখ করে আম কিনতে এসে জানান, এত আগে কাঁচা আম দেখে অবাক হয়েছিলেন। ছবি পাঠাতেই স্ত্রী তাকে দাম যাই হোক কিনে আনতে বলেছেন। অপরদিকে, এনজিওকর্মী রাফিয়া সোলতানা মিম জানান, আগাম আম ভালো লাগলেও দাম এত বেশি যে এখন কেনা সম্ভব নয়। কৃষিবিদেরা বলছেন, বিশেষ আবহাওয়া ও মাটির কারণে দেশে টেকনাফই একমাত্র এলাকা যেখানে শীতের শুরুতেই আম ধরতে পারে। দুই বছর আগে হওয়া গবেষণায় দেখা গেছে, টেকনাফে আগাম ফলন সম্ভব হলেও একই বীজ গাজীপুরে রোপণ করলে স্বাভাবিক মৌসুমেই আম ধরে। টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির জানান, টেকনাফের কয়েকটি গ্রাম এমন জলবায়ুর আওতায় পড়ে, যেখানে শীতের শুরুতেই আম ফলতে পারে। দেশের অন্য কোথাও একই ফলন পাওয়া যায়নি। আগাম কাঁচা আমের আগমনে টেকনাফের বাজার এখন উৎসবমুখর। তবে দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই অপেক্ষায়—সরবরাহ বাড়লেই তারা উপভোগ করবেন মৌসুমের প্রথম আমের স্বাদ।