| ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক।
মোঃ রায়হান আহাম্মেদ ভূইয়া: নারায়ণগঞ্জ, ২২ এপ্রিল ২০২৬ (বুধবার): নারায়ণগঞ্জ জেলার নিকাহ রেজিস্ট্রার ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহ নিরোধে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক “প্রশিক্ষণ কর্মশালা ২০২৬” জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা রেজিস্ট্রার জনাব মোহা: আব্দুল হাফিজ। এতে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও নিবন্ধকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক যাচাই-বাছাই এবং আইন মেনে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বিবাহ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি পবিত্র সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন, যার আইনগত বৈধতা প্রদান করেন নিবন্ধকরা। তাই একটি নিবন্ধন মানে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা। তিনি বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ এর কথা উল্লেখ করে বলেন, মেয়েদের ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া বা নিবন্ধন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ক্ষেত্রে কোনো নিবন্ধক জড়িত থাকলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ বিষয়ে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। বক্তব্যে তিনি তিনটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন— প্রথমত, বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা শিক্ষা সনদ ছাড়া কোনো তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সার্ভারের মাধ্যমে বয়স যাচাই ও ডিজিটাল নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তৃতীয়ত, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং কোনো বাল্যবিবাহের তথ্য পেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, একটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা মানে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষা করা এবং একটি প্রজন্মকে সুরক্ষিত করা। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে নিবন্ধকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল নিবন্ধকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।