প্রকাশ : ... | ... | ...

ফতুল্লার কায়েমপুরে ভয়াবহ আগুন ডিসির তদারকিতে এখন নিয়ন্ত্রণে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ডিসি মোঃ রায়হান কবির


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত।

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় ঝুটের গোডাউনসহ প্রায় ২০টি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল রাতে কায়েমপুর কারাগারের পাশে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির ফায়ার সার্ভিসের নারায়ণগঞ্জের সকল ইউনিটকে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থল তদারকির জন্য পাঠান।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রানহানির খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার খবরে আশপাশের হাজার হাজার উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করে রাস্তাঘাট বন্ধ করে ফেলে। এতে ফায়ার সার্ভিসের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি জানার পর জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশকে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি শান্ত করা এবং জনতার ভিড় নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেন, যাতে উদ্ধার কাজ সহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়।উপস্থিত একজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জানান, ছোট একটি জুটের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘরটি তালাবদ্ধ থাকায় শুরুতে আগুন নেভানো যায়নি। পরে আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এখানে ১৫টি ঝুটের গোডাউন ছিল। আমার তিনটি দোকানসহ সবমিলিয়ে প্রায় ২০টি দোকান পুড়েছে। আগুনের ভয়াবহতার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবির সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ ও তদারকির মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং উপস্থিত স্থানীয় জনতা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা দেন। ঢাকা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ সদর থেকে চারটি ইউনিট পাঠাই। আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরও চারটি ইউনিট যুক্ত হয়। চারদিক থেকে সমন্বিত চেষ্টা চালিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি ঝুটের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে বলে জেনেছি। এখানে ১৫ থেকে ২০টি দোকান ছিল। দোকানগুলি সব পুড়ে গেছে জানতে পেরেছি । কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। পাশের বড় একটি ভবন থেকে সবাই নিরাপদে নিচে নেমে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাইনি। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। এ সময় জেলা প্রশাসকের সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।