| ছবি: নিখোজ সজীব
৪ দিনেও মিলেনি সজিবের খোঁজ, ফোনে প্রতারণা করে ১০ হাজার টাকা নিল চক্র নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং বাবুরাইল এলাকার বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী সজিব খান (২৭) গত চারদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। গ্রামের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ২৩ মার্চ বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিখোঁজের স্ত্রী মোসাম্মৎ নুরজাহান সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এখনো পর্যন্ত সজিবের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার পরিবারের সদস্যদের। নিখোঁজ সজিব খান পটুয়াখালী জেলার দুমকি থানার চরগরবদি গ্রামের মো. শহিদ খানের ছেলে। তার বাবা নারায়ণগঞ্জ শহরের ডি আই টি মসজিদ গেইট এর সামনে ফলের ব্যবসা করেন। ব্যবসার সুবাদে তিনি শহরের ২ নম্বর বাবুরাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তবে সজিবের মা ও ছোট এক ভাই গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীতে বসবাস করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সজিব ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন ব্যবসায়ী সোহেল রানার মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে নিতাইগঞ্জের কাচারি গলি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পাশাপাশি শহরের ২ নম্বর বাবুরাইল এলাকায় লেকের পাড়ে তার বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকান রয়েছে। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি টিউশনিও করতেন। সজিবের স্ত্রী নুরজাহান রানা সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন, প্রয়াত দাদার চেহলাম উপলক্ষে পটুয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে আয়োজিত পারিবারিক মিলাদ মাহফিলে অংশ নিতে গত ২৩ মার্চ দুপুর আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে নিতাইগঞ্জের কাচারি গলি এলাকার বাসা থেকে বের হন সজিব। যাত্রাপথে তিনি একাধিকবার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাও বলেন। বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সজিবের পরিবার এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজখবর নেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সজিবের স্ত্রী মোসা. নুরজাহান রানা ২৪ মার্চ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন এবং পরদিন ২৫ মার্চ একই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া একই দিনে সিদ্ধিরগঞ্জে র্যাব-১১ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরেও এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিখোঁজের ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে। পরবর্তীতে ২৬ শে মার্চ ২০২৬ইং রোজ: বৃহস্পতিবার, দৈনিক বর্তমান দেশবাংলা.নিউজ এর সহ-সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাদেশ দিগন্ত এর সম্পাদক মোঃ রায়হান আহাম্মেদ ভূইয়া সজিবের খোঁজ নিতে তার ফুফা রুবেল মাস্টারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, একটি অচেনা নাম্বার থেকে ফোন করে বলা হয়— সজিব সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে খুব অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে এবং তার চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। ফোনে আরও বলা হয়, টাকা পাঠানোর পর দ্রুত পদ্মা সেতুর কাছে এসে যোগাযোগ করতে। পরিবারের লোকজন বিষয়টি বিশ্বাস করে ওই নাম্বারে ১০ হাজার টাকা পাঠালে কিছুক্ষণ পরই নাম্বারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই নাম্বারে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আরো জানান নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা সহ ও তার গ্রামের বাড়ির থানায় সহ সাধারণ ডায়েরি করেছে স্বজনরা। এতে করে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন এটি একটি প্রতারক চক্রের কাজ হতে পারে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, থানায় করা জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, নিখোঁজ সজিবের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ছিল মাদারীপুর জেলার মোকসেদপুর এলাকায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং নিখোঁজ সজিবের সন্ধান বের করতে পুলিশের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে চারদিনেও সজিবের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন তার পরিবার ও স্বজনরা।