প্রকাশ : ... | ... | ...

ভাসানীর চোখে শহীদ জিয়া: সার্বভৌমত্বের কালজয়ী মেলবন্ধন


সংযুক্ত ছবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর মধ্যকার আদর্শিক সম্পর্ককে অনেকেই জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের সংকটময় সময়ে ভাসানী জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এমন একজন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ককে দেখেছিলেন, যিনি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে সক্ষম। সে সময় বহুদলীয় রাজনৈতিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ এবং রাষ্ট্রের আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে দুই নেতার চিন্তাধারার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক ফারাকা লং মার্চ-এর সময় এই আদর্শিক ঐক্যের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনকে জিয়াউর রহমান সরকার নৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দেয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ফারাকা ইস্যু তুলে ধরে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবিকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, মওলানা ভাসানী আজীবন যে স্বনির্ভর অর্থনীতি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন, জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচিতে তার প্রতিফলন দেখা যায়। ফলে ভাসানী জিয়াউর রহমানকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের রক্ষক হিসেবেও মূল্যায়ন করেছিলেন বলে অনেক গবেষক মত প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, বর্তমান সময়ে আঞ্চলিক পানি বণ্টন, সীমান্তবর্তী নদীর অধিকার এবং ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও ভাসানী ও জিয়ার জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাজনৈতিক দর্শন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাদের মতে, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে এই দুই নেতার আদর্শিক মেলবন্ধন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।