প্রকাশ : ... | ... | ...

পহেলা বৈশাখ সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়: ডিসি মো. রায়হান কবির


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক।

পহেলা বৈশাখ সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়: ডিসি মো. রায়হান কবির। মোঃ রায়হান আহাম্মেদ ভূইয়া, নারায়ণগঞ্জ, ১৩ এপ্রিল: বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি উৎসবমুখর আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ এমন একটি উৎসব যা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন জোরদার করে। একান্ত আলাপচারিতায় জেলা প্রশাসক জানান, বাংলা নববর্ষ বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। সমাজে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ বসবাস করলেও এই উৎসব আমাদের একত্রিত করে। তিনি বলেন, “হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ—সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে মিলিত হয়ে উৎসব উদযাপন করে, যা আমাদের সামাজিক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।” তিনি আরও বলেন, দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে এ ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন আয়োজন। সকাল ৯টায় চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ পর্যন্ত বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হবে। পরে দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন, জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা এবং পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় কারাগার, হাসপাতাল ও এতিমখানায় ঐতিহ্যবাহী খাবার বিতরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিশেষ দিনে নারায়ণগঞ্জ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর এবং ঐতিহাসিক পানাম নগরী সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য বিনা টিকেটে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে, পাশাপাশি বাংলা নববর্ষের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। শেষে জেলা প্রশাসক সকলকে শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য ও নিরাপত্তা বজায় রেখে পরিবার-পরিজনসহ উৎসবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সকলের অংশগ্রহণে পহেলা বৈশাখ উৎসব আনন্দঘন ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এবং নতুন বছর বয়ে আনবে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।