| ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক।
এজেএম আহছানুজ্জামান ফিরোজ, শেরপুর প্রতিনিধি শেরপুরের শ্রীবরদীতে ট্রাঙ্ক থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সঙ্গে মরদেহ বহনকারী পিকআপ ভ্যান ও তার চালককে আটক করা হয়েছে। নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩৫)। সে নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার আলাল মিয়ার মেয়ে বলে জানা গেছে । ডলি ও তার স্বামী বিল্লাল গাজীপুরের মাস্টারবাড়ি এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পিবিআই জামালপুর কার্যালয় ও শ্রীবরদী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে গত বুধবার (০১ এপ্রিল) সকালে শ্রীবরদী পৌরসভার তাতিহাটি নয়াপাড়া এলাকার ঢালিবাড়ি মোড়ে কে বা কাহারা একটি ট্রাংক ফেলে রেখে যায়। পরে এ ট্রাংক নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হলে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাংকের তালা ভেঙ্গে লাশ দেখতে পায়। স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকালে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে কে বা কাহারা একটি তালাবদ্ধ ট্রাংক নামিয়ে রেখে চলে যায়। এ নিয়ে জনমনে কৌতুহল সৃষ্টি হয়। ট্রাংকের কাছে যেতেই দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা শ্রীবরদী থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাংকের তালা ভেঙ্গে লাশ দেখতে পায়। লাশটি বিছানার তোশক ও প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে মোড়ানো হাত- পা বাঁধা অবস্থায় ট্রাংকের ভিতরে ছিলো। তবে লাশটি ফুলে যাওয়ায় চেহারা বুঝা যাচ্ছে না। ধারানা করা হচ্ছে কয়েকদিন আগেই মেরে লাশটি ট্রাংকে ভরে ফেলে রেখে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী বিনা বেগম বলেন, সকালে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাংকটি এখানে নামায়। তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, পরে এসে ট্রাংক নিয়ে যাবো। পরবর্তী সময়ে মরদেহের পরিচয় শনাক্তে পিবিআই জামালপুরের সহায়তা নেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গত ২ এপ্রিল নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে পিবিআইয়ের একটি দল। এ ঘটনায় সেদিনই নিহতের ভাই মো. শফিকুল ইসলাম শফিক মিয়া বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পিবিআইয়ের এসআই সামিউল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৩ এপ্রিল সকালে শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া গ্রাম থেকে মরদেহ বহনকারী পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করে। এ সময় পিকআপের চালক আশরাফ আলীকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ওই পিকআপ ভ্যান থেকেই ট্রাঙ্কটি নামিয়ে রাখা হয়েছিল। পিবিআই সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সকালে ঢাকা থেকে দুই নারী শ্রীবরদীর উদ্দেশে একটি পিকআপ ভ্যান ভাড়া করেন। পরবর্তী সময়ে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় ভাড়া পরিশোধের পর এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ট্রাঙ্কসহ ওই পিকআপে ওঠেন। পরে শ্রীবরদীর নয়াপাড়া এলাকায় এসে ট্রাঙ্কটি নামিয়ে রেখে তিনি পালিয়ে যান। শেরপুর-জামালপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, আটক চালক ভাড়ার বিনিময়ে ট্রাঙ্কসহ ওই ব্যক্তিকে বহন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। ট্রাঙ্কসহ গাড়িতে ওঠা ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, লাশ বহনকারী পিকআপ ভ্যানের চালককে আটক করা হয়েছে। খুব দ্রুতই হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করা হবে এবং হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যাক্তিকে শনাক্ত করে আটক করা সম্ভব হবে।