| ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অপহৃত দুই বছরের শিশু তাকরিমকে উদ্ধার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার হাজীরগল এলাকার বাসিন্দা মোসা. মিম আক্তার (২৩) তার স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে ফতুল্লা থানার লামাপাড়া এলাকায় হাজী ইমান আলীর টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। প্রায় এক মাস আগে একই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন সুজন মিয়া (৩১) ও মাজেদা (২৯)। প্রতিবেশী হওয়ায় তারা প্রায়ই মিম আক্তারের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং শিশু তাকরিমকে কোলে নিয়ে আদর করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টায় শিশুটিকে আদর করার কথা বলে সুজন ও মাজেদা পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও শিশুটির সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে ১৪ জুন রাত ১টা ৫৩ মিনিটে একটি ইমু আইডি থেকে শিশুটির মায়ের ব্যবহৃত নম্বরে ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে হুমকি দিয়ে বলা হয়, "তোর বাচ্চা নিতে পারবি ১ লাখ টাকা লাগবে, নাটক করবি লাশ পেয়ে যাবি।" এ ঘটনায় শিশুটির মা ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি জানার পর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুব আলমের তত্ত্বাবধানে এসআই আশীষ কুমার দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সোর্স, তথ্যপ্রযুক্তি এবং র্যাবের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফতুল্লার চাষাড়া এলাকা থেকে অপহৃত শিশু তাকরিমকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অপহরণ চক্রের মূলহোতা সুজন মিয়া ও মাজেদাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৪) অনুযায়ী ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।