প্রকাশ : ... | ... | ...

গুয়াগাছিয়ায় নয়ন–পিয়াস বাহিনীর রাজত্ব: আজাদ মুন্না ও খোকনের গোপন শেল্টারে খুন, মাদক ও দখলবাজিতে নাজেহাল জনপদ।


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত।

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন আজ যেন এক ‘মৃত্যুপুরী’তে পরিণত হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি লুট, অবৈধ বালু উত্তোলন, খুন, চাঁদাবাজি, ধর্ষণসহ অসংখ্য অপরাধের পাহাড় গড়ে তুলেছে কুখ্যাত নয়ন–পিয়াস বাহিনী। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনীর দৌরাত্ম্যে পুরো ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাইয়ুম দেওয়ান জামালপুর গ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে হঠাৎ করে নয়ন, পিয়াস এবং তাদের সহযোগীরা তার ওপর নৃশংস হামলা চালায়। হামলায় কাইয়ুম দেওয়ান গুলিবিদ্ধ হন এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার আত্মীয় শরীফ প্রধান গুরুতর আহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই হামলার মূল কারণ ছিল কাইয়ুম দেওয়ানের একটি সিদ্ধান্ত। তিনি গুয়াগাছিয়া এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য নিজের বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন। পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পর নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা নৌ-ডাকাতদের অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নয়ন–পিয়াস বাহিনী কাইয়ুম দেওয়ানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, সরকারি সম্পত্তি লুট, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাই এই বাহিনীর মূল আয়ের উৎস। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই বাহিনীর পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী সাংবাদিক আজাদ মুন্না ও খোকন নামে দুই ব্যক্তি। তারা নিজেদের প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নয়ন–পিয়াস বাহিনীকে সেল্টার দিয়ে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আজাদ মুন্না ও খোকনের ছত্রছায়ায় থেকেই বাহিনীটি বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের আরও দাবি, নয়ন–পিয়াস বাহিনীর অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে এর আগেও দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম আলো সহ একাধিক জাতীয় পত্রিকা এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এখনো থামেনি এই বাহিনীর অপরাধ তৎপরতা। গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে গত আট মাসে অন্তত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বাহিনীর ভয়ে বর্তমানে প্রায় ২৫০টি পরিবার ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, নয়ন–পিয়াস বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে—গ্রামে প্রবেশ করলেই গুলি করে হত্যা করা হবে। অভিযোগ রয়েছে, বাহিনীটি জোরপূর্বক জমি দখল, ঘরবাড়ি লুটপাট, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অস্ত্র বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের ইভটিজিং করার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, এই অপরাধ চক্রের শেকড় অনেক পুরোনো। আমজাদ পরিবারের চার প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা একটি অপরাধী নেটওয়ার্ক বর্তমানে নয়ন ও পিয়াসের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সেল্টার দাতা হিসেবে পরিচিত আজাদ মুন্না বিভিন্ন মহলে নিজের বিএনপি কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যোগাযোগের কথাও বলে থাকেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। এসব পরিচয় ব্যবহার করেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন তিনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কিন্তু আজাদ মুন্না ছিলেন নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী দিপু মনির ঘনিষ্ঠ সহচর। কাইয়ুম দেওয়ান বলেন, “আমি শুধু পুলিশ ক্যাম্প বসাতে সাহায্য করেছি। জনস্বার্থে কাজ করাই আমার জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” বর্তমানে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছে। এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়ন–পিয়াস বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।