প্রকাশ : ... | ... | ...

অনলাইন জুয়া চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: নিজস্ব প্রতিবেদক।

ঢাকা, ১৬ মে ২০২৬: আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মূলহোতাসহ ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)–এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। সিআইডি জানায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা বিকাশ, রকেট, নগদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করত। পরে সেই অর্থ ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে, গত প্রায় ৬ মাস ধরে তারা প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন করছিল। এর বড় একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হতো। গ্রেফতারকৃত ৮ জন গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ১. মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২) ২. সজীব চক্রবর্তী (২৯) ৩. মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০) ৪. মো. জসীম উদ্দীন (৩৬) ৫. তৈয়ব খান (২৬) ৬. সৌমিক সাহা (২৮) ৭. মো. কামরুজ্জামান (৩৬) ৮. আব্দুর রহমান (৪৭) অভিযানের প্রেক্ষাপট সিআইডির সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত নজরদারির সময় অনলাইন জুয়ার একাধিক সাইট শনাক্ত করে। পরবর্তীতে পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা (নং-৪১, তারিখ: ১৬/১১/২০২৫) রুজু করা হয়। অভিযান ও গ্রেফতার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য ও সাইবার ডেটা বিশ্লেষণ করে দ্বিতীয় ধাপে নরসিংদী ও ঢাকার ধানমন্ডিতে আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। জব্দকৃত আলামত অভিযানে মোট— ১৩টি মোবাইল ফোন ২০টি সিম কার্ড বিভিন্ন ভুয়া এজেন্ট সিম সংক্রান্ত কুরিয়ার রশিদ জব্দ করা হয়েছে। সিআইডির সাইবার নজরদারি কার্যক্রম চলতি মাসে সিআইডি জানিয়েছে— ১১৬টি জুয়ার ওয়েবসাইট বিটিআরসিতে ব্লক করার জন্য পাঠানো হয়েছে ৮৭৯টি এমএফএস অ্যাকাউন্ট বিএফআইইউতে প্রেরণ করা হয়েছে ৪৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে তদন্তে নেওয়া হয়েছে সিআইডি বলেছে, অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার প্রতিরোধে তাদের সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।