প্রকাশ : ... | ... | ...

খুলনায় বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার মামলা: পিবিআই’র অভিযানে গ্রেফতার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি


সংযুক্ত ছবি

স্টাফ রিপোর্টারঃ কাঠ ব্যবসার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে পরিকল্পিত হত্যা, লাশ নদীতে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা খুলনার লবণচরা থানায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে দায়ের করা বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখ দুপুরে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাধীন পুটিমারি দশগেট এলাকার কাজীবাছা নদীর তীরে একটি বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় রূপসা নৌ-পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তিনি যশোর জেলার অভয়নগর থানার বাসিন্দা মোঃ শফিকুল ইসলাম (৫৪)। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই খুলনা গ্রহণ করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে বরিশাল মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানা এলাকা থেকে মোঃ দ্বীন ইসলাম শেখকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তদন্তে জানা যায়, নিহত শফিকুল ইসলাম ও পলাতক মূল আসামি রুবেল (ছদ্মনাম) একসঙ্গে কাঠের ব্যবসা করতেন। ব্যবসায়িক লেনদেনে ভিকটিমের প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা পাওনা থাকায় তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে রুবেল পরিকল্পিতভাবে শফিকুল ইসলামকে হত্যা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত দ্বীন ইসলামকে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে নৌকা ভাড়া করা হয়। পরে নিহতের মরদেহ বস্তায় ভরে ইট দিয়ে ভারী করে ভৈরব নদীর মাঝখানে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি গোপন থাকে। পিবিআই জানিয়েছে, এ মামলার পলাতক মূল আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।